October 7, 2022, 9:31 am


মেঘনায় জেলেদের জালে ধরা দেশীয় প্রজাতির চিংড়ি।

দেশীয় প্রজাতির চিংড়ি ধরা পড়ছে মেঘনায়

নিজস্ব প্রতিনিধি॥

উজান থেকে বন্যার পানি নেমে আসা এবং জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রচুর পরিমাণে দেশীয় জাতের চিংড়ি মাছ ধরা পড়ছে মেঘনা নদীতে। ছোট নৌকা করে দিনের বেলায় অধিকাংশ জেলেরা চিংড়ি আহরণ করছে। আবার অনেকে দেশীয় ও চায়না রিং চাই দিয়ে চিংড়িসহ অন্যান্য মাছ পাচ্ছে। অন্য বছরের তুলনায় এ বছর ছোট চিংড়ির আমদানি অনেক বেশী।

সোমবার (১৮ জুলাই) সকালে চাঁদপুর সদর উপজেলার বহরিয়া, হরিণা ও আখনের হাট অধিকাংশ মাছের আড়তে চিংড়ি মাছ হাকডাক দিয়ে বিক্রি করতে দেখাগেছে। এ বছর জেলেদের জালে চিংড়ি বেশী ধরা পড়ায় দামও কিছুটা কম। তবে খুচরা বাজারে চিংড়ির চাহিদা যেমন বেশী দামও অনেকটা চড়া। শহরের পালবাজার, বিপনীবাগ ও ওয়ারলেছ বাজারে প্রতিকেজি চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ৮শ’ থেকে ১ হাজার টাকা।

হরিণা ফেরিঘাট মৎস্য আড়তের ব্যবসায়ী বাচ্চু সৈয়াল জানান, সকাল থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত চিংড়িসহ অন্যান্য প্রজাতির ছোট মাছ আমদানি হয়। বছরের অন্য সময়ের তুলনায় এখন একটু বেশি আমদানি। তবে দাম কমেনি। ছোট সাইজের প্রতিকেজি চিংড়ি ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আড়ৎগুলোতে ডাকে বিক্রি হয়।

ফরিদগঞ্জ থেকে আসা চিংড়ি ক্রেতা শাহিদুল বলেন, এ বছর দেশীয় জাতের চিংড়ির আমদানি বেশী। বন্যার পানির সাথে আরো বেশ কিছু জাতের চিংড়ি মেঘনা জেলেদের জালে ধরা পড়ছে। এসব চিংড়ি গত কয়েকবছর দেখা যায়নি। আড়তে তাজা চিংড়ি এবং দাম একটু কম পাওয়া যায় সে জন্য এসেছি। দামে ভাল পাওয়াগেলে কয়েক কেজি কেনার ইচ্ছা আছে।

হরিণা মৎস্য আড়তের ব্যবসায়ী আবুল হোসেন জানান, প্রতিদিন আড়তে ইলিশ আসে ভোরে এবং দুপুরে। বাকী সময় স্থানীয় জেলেদের চিংড়িসহ অন্যান্য ছোট মাছ দিয়ে ক্রয়-বিক্রয় চলে। বিশেষ করে তাজা চিংড়ি ক্রয় করার জন্য চাঁদপুর শহর, ফরিদগঞ্জ ও হাজীগঞ্জ থেকে লোকজন সরাসরি আড়তে আসে।

তিনি আরো জানান, মেঘনা নদীর পশ্চিমে চরাঞ্চলে চিংড়িসহ ছোট মাছের আমদানি অনেক বেশী। স্থানীয় জেলেরা একেকবার এক থেকে দুই কেজির বেশী চিংড়া আনেন না। শহরের খুচরা বিক্রেতারা এখান থেকে অল্প অল্প করে চিংড়ি ক্রয় করে ২০-৩০ কেজি হলে শহরে নিয়ে যায় বিক্রির জন্য। এখান থেকে ৫শ’ টাকায় ক্রয় করলে শহরে নিয়ে ৮শ’ থেকে ৯শ’ টাকা প্রতিকেজি বিক্রি করেন।

চাঁদপুরের মৎস্যজীবী নেতা তছলিম বেপারী জানান, আষাড় ও শ্রাবন মাসে মেঘনা নদীতে চিংড়ি মাছ পাওয়া যায়। তবে সাইজে একটু ছোট। জেলেরা বেশীর ভাগ চাই দিয়ে এসব চিংড়ি ধরেন। ভরা বর্ষায় মেঘনা নদীর পাশাপাশি ডাকাতিয়া নদীতে গলদা চিংড়ি পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


সংবাদ পড়তে লাইক দিন ফেসবুক পেজে